
তামিম আহমেদ ||
পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স তিন বছরে নামিয়ে আনার চিন্তাভাবনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে শিক্ষার্থীরা এক বছর আগেই কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, গত ৩০ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন পলিটেকনিকগুলোতে বর্তমানে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্স চালু রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে আগে এই কোর্সের মেয়াদ ছিল তিন বছর। সভায় জানানো হয়, চার বছর মেয়াদি করার পরও পাঠ্যক্রমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।
এ অবস্থায় কোর্সের মেয়াদ আবার তিন বছর করা হলে এর সম্ভাব্য সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করা হয়। মেয়াদ কমানো হলে শিক্ষার্থীরা এক বছর আগেই কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ পাবে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এই প্রস্তাবকে ঘিরে তৃণমূল পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের মেয়াদ হ্রাসের প্রস্তাব নিয়ে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরছেন তামিম আহমেদ।
কম্পিউটার বিভাগের ২ম বর্ষের শিক্ষার্থী নিলুফা আক্তার মনিকা বলেন- বর্তমানে কারিগরি শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি গুঞ্জন চলছে, ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পাঠ্যকার্য্যক্রম ৩ বছরে নামিয়ে আনা হবে।, আমাদের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট করতে হবে, সরকারি চাকুরির গেজেট সংশোধন করে এই শিক্ষা কার্য্যক্রম ৩ বছরে নামিয়ে আনা হবে।
উপসহকারী প্রকৌশলী, জুনিয়র ইস্ট্রাকটর পদে আবেদন করতে পারে ১০ বছর প্রাথমিক লেভেল এবং ৪ বছর ডিপ্লোমা ও সমমান ডিগ্রি অর্জন করে এই সরকারি জব সেক্টরে আবেদন করা যায়।কিন্তু ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ৩ বছরে নামিয়ে আনা হলে আমাদের উপসহকারী প্রকৌশলী পদ কি আমাদের ই থাকবে নাকি কাটছিট করা হবে, এটির কোনো স্পষ্ট বিবৃতি নেই।
সরকারকে হয়তো ৩ বছরের ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কারিকুলাম ৪ বছরের সমমান করতে হবে। নাহয় সরকারি চাকরি নীতি মালা সংশোধন করে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পাঠ্য কার্য্যক্রম ৩ বছরে নামিয়ে আনতে হবে।
পুরকৌশল বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী তাসমিয়া বাহার বলেন- ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের মেয়াদ কমানোর প্রস্তাব বাস্তবায়নে সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে উপকারের থেকে অপকারই বেশি হবে। এটার মাধ্যমে হয়তো ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার এর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে কিন্তু যোগ্য ও মানসম্মত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার পাওয়া যাবে না।
কারণ হিসেবে আমি বলতে চাই আমাদের ৮টা সেমিস্টার যেখানে প্রতি সেমিস্টার এ ছয়টা, সাতটা করে বই থাকে বইগুলো শেষ করা এবং প্র্যাকটিক্যাল করতে ভালো একটা সময়ের প্রয়োজন। হ্যাঁ অল্প সময়ে সব কিছু করা যাবে কিন্তু ভালোভাবে কোন কিছুই করা যাবে না। যদি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স তিন বছর করা হয়। এর ফলে হবে যে আমরা প্রতি সেমিস্টারে সাড়ে চার মাস সময় পাবো এই সাড়ে চার মাসের মধ্যে দুই মাস আমাদের পরীক্ষা দিতেই চলে যাবে। বাকি থাকবে দুই মাস। এই দুই মাসে প্রতি সেমিস্টারের ৬- ৭ টা বই শেষ করা এবং প্র্যাকটিক্যাল করা সম্ভব হয়ে উঠবে না। এর ফলে ডিপ্লোম ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের তাদের কোর্সটি খুব তাড়াহুড়ভাবে নিজেদের যোগ্যতা অর্জন ছাড়াই শেষ করতে হবে।
এর ফলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার নামধাড়ি অনেক ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার পাব।কিন্তু যোগ্য ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার পাব না। সেক্ষেত্রে যে উদ্দেশ্য নিয়ে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সটি তিন বছর করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে সেটা তো পূরণ হবেই না বরং দেশে আরো বেকারত্ব বৃদ্ধি পাবে। ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এর একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমার কাছে এই প্রস্তাব গ্ৰহনযোগ্য বলে মনে হচ্ছে না।
কম্পিউটার বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার বলেন- ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের মেয়াদ হ্রাসের ফলে একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারের মান ক্ষতিগ্রস্থ হবে,তাই ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের সময় কমানোর পরিবর্তে সিলেবাস আধুনিক ও ল্যাব উন্নত করা দেশের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
পুরকৌশল বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জারিফ রহমান আজাদ বলেন- একজন শিশুকে ছাত্রজীবনের প্রথম ধাপ, অর্থাৎ শিশু শ্রেণি থেকেই দেশপ্রেম সম্পর্কে ধারণা বা জ্ঞান দেওয়া হয়। সেই দেশপ্রেম থেকেই ধীরে ধীরে একটি শিশুর মনে দেশ গড়ার স্বপ্ন জাগে। সেই স্বপ্ন বুকে নিয়ে একজন শিক্ষার্থী নিম্ন মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা সম্পন্ন করে। এরপর নিজের জন্য, পরিবারের জন্য এবং দেশের কল্যাণে কাজ করার উদ্দেশ্যে নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা বেছে নেয়। যেমন- কেউ বেছে নেয় কারিগরি শিক্ষা, আবার কেউ বেছে নেয় সাধারণ বা জেনারেল শিক্ষা। আমার ক্ষেত্রে, আমি আমার জীবনকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার জন্য এবং দেশকে সুন্দরভাবে পরিচালনা ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখার স্বপ্ন নিয়ে কারিগরি শিক্ষা বেছে নিয়েছি। এরই ধারাবাহিকতায় নিম্ন মাধ্যমিক পাস করে অকৃত্রিম উচ্ছ্বাস ও আনন্দ নিয়ে ভর্তি হয়েছি দেশের অন্যতম সনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এ দেশের নাগরিক এবং একজন শিক্ষার্থী হয়েও আমাদের পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের ভর্তি হওয়ার প্রথম দিন থেকে শুরু করে ক্যাম্পাস জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। অনেক সময় মনে হয়, যেন পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা এই দেশের জন্য উপেক্ষিত।
কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। মাঠ পর্যায়ে দেশে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের যে বিশাল কার্যক্রম রয়েছে, তা যদি এক দিনের জন্যও বন্ধ হয়ে যায়, তবে দেশের সিংহভাগ প্রকৌশলগত কাজ অচল হয়ে পড়বে! তাই ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে সারাদেশের পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলতে চাই, বর্তমান সরকার যদি ৪ বছরের ডিপ্লোমা কোর্সকে ৩ বছরে নামিয়ে আনে, তবে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা কর্মক্ষেত্রে নানাবিধ ভোগান্তির শিকার হবে। পাশাপাশি দেশের প্রকৌশল খাতেও বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পুরকৌশল বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ মাহিয়ান ইসলাম বলেন– ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মেয়াদ হ্রাস: জাতীয় উন্নয়নের মূল ভিত্তি ও অবকাঠামোগত শক্তিতে সরাসরি আঘাত।
ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সকে চার বছর থেকে তিন বছরে নামিয়ে আনার প্রস্তাবটি সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। বিষয়টি প্রথম দৃষ্টিতে সময় সাশ্রয়ী ও বাস্তবসম্মত মনে হলেও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে এটি দেশের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য একটি উদ্বেগজনক দিক নির্দেশ করে।
বাংলাদেশের বাস্তবতায় মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন, তদারকি এবং প্রযুক্তিগত কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা সরাসরি নির্মাণকাজ, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে যুক্ত থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এই দক্ষতা অর্জনের জন্য একটি সুসংগঠিত ও পর্যাপ্ত সময়ভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা অপরিহার্য।
বর্তমান চার বছরের ডিপ্লোমা কোর্সে আটটি সেমিস্টারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ধাপে ধাপে তত্ত্ব, প্র্যাকটিক্যাল এবং প্রজেক্টভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করে। প্রতিটি সেমিস্টারে একাধিক বিষয়, ল্যাব ও অ্যাসাইনমেন্টের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষার পরিবেশ তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়াটি শুধুমাত্র পরীক্ষাভিত্তিক নয়; বরং দক্ষতা ও বাস্তব প্রয়োগের উপর নির্ভরশীল।
এই কোর্সকে তিন বছরে নামিয়ে আনা হলে সেমিস্টারের সময়কাল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত সময় না পেয়ে তাড়াহুড়োর মধ্যে পাঠ সম্পন্ন করতে বাধ্য হবে। প্র্যাকটিক্যাল ও ল্যাবভিত্তিক শিক্ষার গভীরতা কমে যাবে, যা সরাসরি দক্ষতার উপর প্রভাব ফেলবে। ফলস্বরূপ, সংখ্যায় বেশি হলেও বাস্তব দক্ষতায় পিছিয়ে থাকা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।
এটি কেবল ব্যক্তিগত বা শিক্ষাগত সমস্যা নয়; বরং জাতীয় উন্নয়নের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি। কারণ একটি দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের মান অনেকাংশে নির্ভর করে সেই কাজের সাথে যুক্ত টেকনিক্যাল জনশক্তির সক্ষমতার উপর। দক্ষতার ক্ষেত্রে আপস করা হলে উন্নয়নের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া অনিবার্য।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও চাহিদা রয়েছে। কোর্সের মান এবং প্রশিক্ষণের গভীরতা কমে গেলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। এর ফলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে এই প্রেক্ষাপটে একটি বিকল্প ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। চার বছরের ডিপ্লোমা কোর্সের মান বজায় রেখে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সংস্কার আনা জরুরি। ডিপ্লোমা শেষে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ভর্তি হলে অনেক ক্ষেত্রে বিষয়ের পুনরাবৃত্তি দেখা যায়। সেক্ষেত্রে ক্রেডিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য বিএসসি কোর্সের সময়সীমা এক বছর কমিয়ে আনা যেতে পারে।
এ ধরনের উদ্যোগ একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের সময় ও শ্রম সাশ্রয় করবে, অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষার মানও অক্ষুণ্ণ থাকবে। পাশাপাশি ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা গেলে একটি দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক জনশক্তি তৈরি করা সম্ভব হবে।
সুতরাং, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের মেয়াদ হ্রাস না করে বরং এর গুণগত মান উন্নয়ন ও উচ্চশিক্ষার সাথে সমন্বয় সাধনই হতে পারে একটি কার্যকর ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। এটি দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নকে আরও শক্তিশালী করবে এবং টেকসই উন্নয়নের পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
কম্পিউটার বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী জেড. এ. সালেহ সাবরিন বলেন- কারিগরি শিক্ষা একটি দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড—এ সত্যটি আজ আর নতুন নয়। বিশ্বে যে দেশগুলো প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে, তাদের শিক্ষাব্যবস্থায় কারিগরি শিক্ষার অংশগ্রহণও তুলনামূলকভাবে বেশি। জার্মানি, জাপান, সিঙ্গাপুর কিংবা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো বহু আগেই বুঝে নিয়েছে—শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, দক্ষ মানবসম্পদই উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি। সেই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশও একসময় সঠিক পথেই হাঁটছিল। ৪ বছরের ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সকে আধুনিকায়ন করে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী করার উদ্যোগ ছিল একটি সময়োপযোগী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত।
কাজী ইজাবুল খালিদ স্যারের ২০২২ সালের বিশ্লেষণে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে—এই কোর্সটি শুধু একটি শিক্ষাক্রম নয়, বরং দেশের প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ গঠনের ভিত্তি। ২০০০ সালে দীর্ঘ সংগ্রামের পর পুনরায় চালু হওয়া ৪ বছরের ডিপ্লোমা কোর্সটি ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে তৈরি হওয়া ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা দেশের শিল্পখাত, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই কোর্সকে ৩ বছরে নামিয়ে আনার প্রস্তাব শুধু একটি শিক্ষানীতির পরিবর্তন নয়—এটি পুরো কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তিকে দুর্বল করে দেওয়ার শামিল। যখন বিশ্ব চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তখন দক্ষতা, গবেষণা, প্র্যাকটিক্যাল জ্ঞান এবং প্রযুক্তিগত অভিযোজনের জন্য আরও সময় ও উন্নত কারিকুলাম প্রয়োজন। সেখানে কোর্সের সময়সীমা কমিয়ে দেওয়া মানে শিক্ষার গভীরতা কমিয়ে দেওয়া, যা সরাসরি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির পথে বাধা সৃষ্টি করবে।
চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রাম কোনো অতিরিক্ত সময়সাপেক্ষ কাঠামো নয়; বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত, আন্তর্জাতিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং শিল্পক্ষেত্রে পরীক্ষিত একটি শিক্ষা ব্যবস্থা। একে তিন বছরে নামিয়ে আনা মানে শুধু একটি বছর কমানো নয়, বরং একটি জাতির দক্ষতা, সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে সংকুচিত করা। সময়ের দাবি হলো এই শিক্ষাকে কমানো নয়, বরং আরও আধুনিক, আরও প্রযুক্তিনির্ভর এবং আরও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তোলা।
কারিগরি ও ডিপ্লোমা শিক্ষার সেরা শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট `ডিপ্লোমা নিউজ‘। যেখানে শিক্ষা সম্পর্কিত সকল তথ্য, নোটিশ ও খবর ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়। আপনার প্রিয় ক্যাম্পাসের তথ্য ও খবর জানাতে এই ঠিকনায় মেইল করুন- newsdiploma@gmail.com

