ফেনী পলিটেকনিক প্রতিনিধি ||
কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের প্রায় ১০০টি উত্তরপত্র হারিয়ে ফেলেছেন ফেনী সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার টেকনোলজি বিভাগের একজন শিক্ষক। উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য নিয়ে আসা খাতাগুলো সিএনজি অটোরিকশায় ফেলে আসেন তিনি। খোঁজাখুঁজি করেও এখনো উত্তরপত্রগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে হারিয়ে ফেলা ওই শিক্ষকের নাম বলতে রাজি হয়নি কর্তৃপক্ষ।
ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একটি সূত্র জানায়, কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের একজন শিক্ষক উত্তরপত্রগুলো মূল্যায়নের জন্য কারিগরি বোর্ড থেকে নিয়ে এসেছিলেন। ভুলক্রমে তিনি মহিপাল থেকে সদর হাসপাতাল মোড় আসার সময় একটি সিএনজি অটোরিকশায় সেগুলো ফেলে রেখে চলে আসেন।
এই ঘটনায় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উত্তরপত্র হারানোর বিষয়টি উল্লেখ করে একটি স্ট্যাটাস দেন পলিটেকনিকের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক অতিথি শিক্ষক লিও মো. মেহেদী হোসাইন। ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, গতকাল (রোববার) আনুমানিক ১০টায় মহিপাল থেকে সদর হাসপাতাল মোড় সিএনজিতে আসার সময় ফাইনাল পরীক্ষার ১০০টি উত্তরপত্র হারিয়ে গেছে। যদি কেউ পেয়ে থাকেন, দয়া করে জানাবেন। উপযুক্ত সম্মানি দেওয়া হবে। ওই পোস্টে যোগাযোগের জন্য ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও নিজের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর উল্লেখ করেন তিনি।ক্যালেন্ডার অ্যাপ বাছুন
পরে পোস্টে উল্লিখিত তার মোবাইল নম্বরে কল করে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কোথাও পলিটেকনিকের খাতা হারানোর কথা উল্লেখ করিনি। ফেসবুক পোস্টটি আমি ডিলিট করেছি। এর বেশি তথ্যের প্রয়োজন হলে পলিটেকনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি। তবে পলিটেকনিক সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বললেও ওই শিক্ষকের পরিচয় জানাতে কেউ রাজি হননি।
এ বিষয়ে কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের চীফ ইন্সট্রাক্টর ও বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ মেহের উল করিম, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর আবদুল্লাহ আল মাসুদ, মো. মাঈনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি।
একসঙ্গে ১০০ শিক্ষার্থীর ফাইনাল পরীক্ষার উত্তরপত্র হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। হারিয়ে যাওয়া উত্তরপত্রগুলোর মূল্যায়ন এবং ফলাফলে কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অষ্টম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী আশ্রাফুল হক বলেন, একসঙ্গে এতগুলো উত্তরপত্র হারিয়ে ফেলা অবশ্যই দুশ্চিন্তার। চূড়ান্ত ফলাফলে যা বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এই ঘটনায় শিক্ষকের গাফিলতি রয়েছে।
মুজাহিদ সৌরভ নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার ১০০টি উত্তরপত্র হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা উদ্বেগের। একটি উত্তরপত্র শুধু একটি পরীক্ষার অংশ নয়, এর ফলাফলের ওপর একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ একাডেমিক জীবন ও ক্যারিয়ার অনেকাংশে নির্ভর করে। তাই এমন ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ফলাফল ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। এছাড়া এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণ ও পরিবহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি।
ফেনী সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী আজম বলেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর সকালে সিএনজি দিয়ে আসার সময় কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের একজন শিক্ষক ভুলবশত উত্তরপত্রগুলো রেখে চলে আসেন। এখনো ওই শিক্ষক উত্তরপত্র খুঁজে চলেছেন। এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ওই শিক্ষকের নাম-পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আর বেশিকিছু বলতে চাচ্ছি না। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দেওয়া হবে। পরে তাকে আরও একাধিকবার এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. জাহেদুল কবির খান জানান, ফেনী পলিটেকনিকের কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের একজন শিক্ষক কারিগরি বোর্ডের ১০০টি উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য এনেছিলেন। ভুলক্রমে উত্তপত্রগুলো তিনি একটি সিএনজি অটোরিকশায় রেখে চলে এসেছেন। বিষয়টি ইতোমধ্যে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডকে জানানো হয়েছে। ওই শিক্ষকের নাম-পরিচয় জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। সেজন্য ওই শিক্ষকের নাম ঠিক বলতে পারছি না।
কারিগরি ও ডিপ্লোমা শিক্ষার সেরা শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট ‘ডিপ্লোমা নিউজ’। যেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য, নোটিশ, শিক্ষা-সংক্রান্ত, ভর্তি তথ্য এবং চাকরির খবরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আপডেট নিয়মিত প্রকাশ করা হয়। আপনার প্রিয় ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, সংবাদ, নোটিশ বা যেকোনো আপডেট আমাদের জানাতে এই ঠিকনায় মেইল করুন- newsdiploma@gmail.com
ডিএন/এসআর
